মরক্কো, সৌদি আরব ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টন টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৯৮৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া সভায় গম ও এলএনজি-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রতি টন সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৪১৫ ডলার। একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে আরো ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৪১৭ দশমিক ৫০ ডলার। একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার ২৮৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯৭ দশমিক ৫০ ডলার।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮২ দশমিক ৬৭ ডলার। একই কোম্পানির কাছ থেকে ১৩৩ কোটি ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় আরো ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭০ দশমিক ৮৩ ডলার।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকায় কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৫০ দশমিক ৭৫ ডলার।
অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার টন গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৭৫ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি টন গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯২ দশমিক ১৪ ডলার। সুইজারল্যান্ডের অ্যাস্টন এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল এসএ-এর কাছ থেকে এ গম কেনা হবে।